মানুষের মন খুবই জটিল, মাঝে মাঝে সন্দেহ জাগে এটার অবস্হান আর কর্ম পদ্ধতি নিয়ে। তবে এটা ঠিক মনের মাঝে এমন কিছু প্যারামিটার বা অনুভূতি, যেটাই বলি না কেন, বিদ্যমান যেটার জন্য জীবনের বৈচিত্র্যগুলো খুব গভীর ভাবে ধরা দেয়!
একটা পরীক্ষা করা যাক, একটি ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে গেলাম একটা লেডিস হোস্টেলে। সেখানে ১০ টা মেয়ের সাথে পরিচিত হলো। আড্ডাটা সুন্দর কাটাবার পর ফিরে আসলাম এবং তারপর অনেক দিন দেখা নেই বা এ বিষয়ে কথা হলো না।
যেদিন এটা নিয়ে কথা শুরু হলো সেদিন দেখা সেদুজনের নাম খুব ভালো ভাবে মনে রেখেছে। এর মধ্যে একজন দেখা যাবে খুব সুন্দর বা সেক্সী ফিগারের অধিকারী আর একজন থাকবে খুব সুন্দর একটা মেয়ে। ফ্রয়েডীয় তত্ব এযুগে খুব প্রবল।
তবে কতটা প্রবল সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। এজন্য যে তাহলে মানুষ জীবনে যতগুলো এ্যাডাল্ট ফিল্ম দেখে তার আদ্যাপান্ত মনে রাখতো যেটা সাধারনত হয় না। মানুষ মনে রাখে খুব সুন্দর ছবি বা এমন কোনো ছবি যেটা মনে দাগ কাটে।
এবারের ঈদটা আগের ঈদের থেকে পুরোপুরি ডিফারেন্ট। স্বীকার করতে দ্বীধা হয়নি, গতবার ঈদে যে টার্গেট গুলো ছিলো সেগুলোর কোনোটাই পূরণ হয় নি। জীবন চলছে জীবনের মতো, আরও জড়িয়ে পড়ছি সম্পর্ক নামের কঠিন মায়ায়। এমন না যে এসব নতুন সম্পর্ক, সেই পুরোনো গুলো: মা, বাবা, বোন ভাইয়েরা। অফিস চলছে অফিসের মতো। আবারও সামনে আসছে স্বপ্ন দেখানিয়া ডিভি লটারী। এই শুক্রবার বন্ধু বান্ধবরা মিলে পুরন ঢাকায় ইফতারী করার প্লান করছি, হয়তো নতুন কোনো কাজে হাত দেয়া হবে। আরও এক বন্ধু মামা মৃদুল সেও একটা নতুন সরকারী কাজে রেজিস্ট্রেশন করছে, নতুন প্রজেক্ট এসএমএস এ বললো শেয়ারে করবো কি না!
যখন কোনো নতুন কাজ বা প্রজেক্টের অফার আমার সামনে আসে তখন আমি কখনো মনকে পাত্তা দেই না, কারন মন সব সময় আবেগ দিয়ে বিচার করে। সব সময় মাথা আর চারিদিক দেখার জন্য দিব্যদৃস্টি ব্যাবহার করি। এমন না যে আমি খুব সফল কেউ, তবু চেস্টা করি বিফলতা যেনো স্পর্শ না করে। তবে এটা দেখেছি মনে থেকে নেয়া ডিসিশন গুলো যদি সফল না হয় থালে খুব ভোগায়, মন ভেঙ্গে গেলে জোড়া লাগানো খুব কস্টের ব্যাপার। তাই বুদ্ধিটা ভেঙ্গে খাবার চেস্টা করি।
এবার আবারও নতুন করে প্লান করার সময় এসেছে। তবু প্লান গুলো বেশীর ভাগ সময় ফ্লপ খায় এজন্য যে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে সব ঠিক করবো তখন আর কিছু ব্যাপার এসে সেগুলোকে খটকার মধ্যে ফেলে দেয়। একটা ভাবনা হাতে নিয়েছি। এখন থেকে যাই করি না কেন সাধারন ভাবে সঠিক রাস্তায় চেস্টা করবো, ডাইনে বায়ে তাকাবো না। উপরে আল্লাহ আছেন, তার মনে যা ইচ্ছা তাই হবে।
তবে ইদানিং আমার ইনভেস্টমেন্ট গুলো একটু টেনশন করছি। কারন কয়েক লাখ টাকা বাজারে খাটানো আছে। সামনে যদি নির্বাচন হয় তাহলে এগুলো ডাবল হতে সময় লাগবে না, তবে নির্বাচন না হলে কি হবে সেটা বলা খুব মুস্কিল! পুজিবাজার, অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, রাজনীতি: সবকিছুর সাথে সবকিছু নিভর্র করছে। তবে এটা হয়তো খারাপ হবে দেশের অর্থনীতি খারাপ হলে। কারন দেশের অর্থনীতি খুব খারাপ হলে, আমার ইনভেস্টম্যান্ট বাড়াবো আর নতুন কিছু প্রজেক্ট যতটা পারা যায় হাতে নেবো। ঋন নিয়ে হলেও দরকার। কারন সুদিন যদি ২ বছর পরেও আসবে তাহলে তারপরেই টাকাগুলো দ্বিগুণ তিনগুণ হবার সম্ভাবনা আরও প্রবল ভাবে দেখা দেয়। তবে টেনশন টা খুব বাড়বে আর থাকবে জুয়া খেলার মতো একটা নিত্য ঝোক!
ইদানিং বাসায় বোধ হয় বিয়েশাদী নিয়ে কিছুটা হলে গোপন বা প্রকাশ্যে ইনডাইরেক্টলি কথা হচ্ছে, যদিও আমি শিওর না। তবে এটা আমি শিওর, বিয়ে করার ইচ্ছে আমার মোটেও নেই। কেন নেই সেটা জানি, তবে এটা জানি বুকের ভিতর একটা মরা লাশ নিয়ে বেড়চ্ছি। যদি ওটা আবার বেচে থাকে অথবা নতুন ভাবে পুনরজ্জীবিত হয় তাহলে সেটার হবে অন্যরকম একটা ব্যাপার। এই পার্থিব জীবনে কোনোকিছু একবার মারা গেলে সেটা জীবিত হয় না, তবে মনের ব্যাপার আলাদা, কিন্তু কতটা আলাদা সেটা হয়তো কেই জানে না। আমি বৈচিত্র্য পছন্দ করি, কিন্তু নিজের জন্য আর কিছুই নয়, কিছুই নয়!
ঈদের আগের দিন রাতের বেলা শপিং করবো, এটা নিয়েই আমি এখন বেশ এক্সাইটেড। এবার ভাবছি নিজের জন্য অল্প কিছু কিনে, রাস্তার জন্য কিছু কিনবো। এরা দেখি কিছু দেখাতে পারে কিনা আমাকে!